Skip to main content

নিঃশব্দ ভালবাসা -- শেখ শরিফ জয়



--- আমাকে একটু ভালবাসবি?
--- কেন?
--- মানুষ ভালবাসে কেন জানিস না?
--- না। তুই বল!
--- সাদা কালো জীবনটা রঙিন করার জন্য ভালবাসে।
--- তাহলে থাক। আমার জীবন এমনিতেই রঙিন।
--- কিন্তু আমার জীবনতো সাদা কালো রং চটা।
--- তাতে আমি কি করবো?
--- সেই জন্যইতো আমার একটু ভালবাসার রং দরকার। যে রং দিয়ে আমার জীবনটা রঙিন করতে পারি।
--- না ,আমি পারবো না।
--- আমি জানি তুই পারবি। প্লীজ একটু চেষ্টা করে দেখ।
--- আচ্ছা তাহলে দেখি।
..
কিছু সময় পর ,,,
..
--- কিছু চেষ্টা করে দেখলি?
--- দেখছি তবে হয় না রে।
--- কি বলিস! হবেনা কেন! হবে। চোখ দুটো বন্ধ করে দেখ পারবি।
--- কেনো! চোখ বন্ধ করে কি মানুষকে ভালবাসতে হয়?
--- হুম চোখ বন্ধ করে ভালবাসতে হয়।
--- তাহলে থাক। আমি অন্ধের মত ভালবাসতে পারবো না।
--- তুই যেভাবে ভালোবাসতে চাস সেই ভাবেই ভালবাসিস। তবুও ভালবাস।
--- আচ্ছা তোকে ভালবাসলে আমাকে কি দিবি?
--- তোর জন্য এনে দেব একশত একটা লাল পদ্ম। মধ্য কপালে ঠাঁই পাবে নীল টিপ। নরম কোমল হাতে পরিয়ে দেব কাঁচের এত্ত গুলা চুড়ি। কালো ক্যাশে গুজে দেব রজনীগন্ধা।
--- না থাক।
--- কেন ! আবার কি হল?
--- তোর এতো কিছু রাখা আমার জায়গা নেই। আমার ছোট্র ঝুড়ি।
--- সত্যি তুই ভালবাসবি না?
--- আমি ভালবাসতে পারিনা রে!
--- কেন?
--- এমনিতেই।
--- আচ্ছা শুন আমি তোকে ভালবাসতে শিখিয়ে দেই।
--- কিভাবে?
--- অলস দুপুরের ব্যস্ততার ক্ষণে আমাকে একটু মনে রাখিস। মধ্য রাতের ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমাকে একটু ভাবিস। আকাশের তারা সাজিয়ে আমাকে দেখিস। শন-শন বাতাসে আমাকে অনুভব করিস।
--- এত কঠিন?
--- প্রথম প্রথম কঠিনই মনে হয়। একটু চেষ্টা করলে সহজ হয়ে যাবে।
--- তাই?
--- হুম।
--- আচ্ছা চল।
--- কোথায়?
--- বাড়ি।
--- এতো তাড়াতাড়ি?
--- সন্ধ্যা হয়ে এসেছে যেতে হবে।
--- কিন্তু আমার একটু ভালবাসার কি হল?
--- আরে ধুর! এতো ভালবাসা ভালবাসা করিস কেন তুই?
--- ভালবাসাই তো সব।
--- ভালবাসা সহ্য করতে পারবি না।
--- কেন?
--- ভালবাসার আগুনে জ্বলে পুড়ে যাবি তুই।
--- আমি তোর ভালবাসার আগুনে পুড়ে অবশিষ্ট ছাই হতে।
--- হি হি হি।
--- হাসিস কেনো?
--- পাগল দেখছি।
--- পাগল! কোথায়?
--- আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
--- আমি তোর জন্য পাগল।
--- অনেক হয়েছে পাগলামি। এবার চল।
--- না আমি যাব না। তুই যা।
--- রেগে গেলি?
--- না মরে গেছি।
--- আচ্ছা আমি যদি তোকে একটু না ভালবেসে অনেক খানি ভালবাসি! তাহলে হবে?
--- না। অনেক ভালবাসা নিতে পারব না আমার একটু ভালবাসা লাগবে।
--- আচ্ছা তোর যেটুকো অভাব সেটুকো নিস। বাকিটুকো আমাকে দিস।
--- পাগলি।
--- তোর পাগলি।
--- হাতটা ধরি।
--- কেন?
--- প্রেমের পথে হাটতে হলে ভালবাসার মানুষের হাত ধরে হাঁটতে হয়।
--- শক্ত করে ধর ছাড়িস না।
--- বেঁচে থাকতে ছাড়ব না।
--- সত্যি?
--- বিশ্বাস রাখতে পারিস তোকে ছাড়ব না।
--- তোকে একটু ভালবাসা দিলাম।
--- আমিও নিলাম।

Comments

Popular posts from this blog

জীবনের আশা

নাইম ফোন হাতে রেখেই চুপ করে বসে পরলো। বসে নিজের কাছে নিজের কথা বলতে থাকলো। এই কি সেই ঝুমুর!! যার জন্য নাইম এতকিছু করলো। আর সেই ঝুমুর আজ এমন হয়ে গেল? তিন বছরের বেশি সময় ঝুমুরের সাথে নাইমের প্রেমের সম্পর্ক। প্রথমদিকে ভাল গেলেও আজ নাই নাই অবস্থায় পরে রয়েছে। আজ সেই প্রথম দিনগুলোর কথা মনে পরে যাচ্ছে। তিন বছর আগে, নাইম কোচিং সেন্টারে এসে বসে আছে। আজ মনেহয় আগেই চলে এসেছে। তাই, নিজে নিজে অসস্তিতে ভুগছে। তাই বসে থাকতে ভাল লাগছে না। নাইম বাইরে এসে অনেককেই আসতে যেতে দেখছে। কাউকে চেনা আবার কাউকে অচেনা। হঠাৎ নাইম একটা মেয়েকে তার দিকেই আসতে দেখলো। মেয়েটি কাছাকাছি আসতে মনেহল সে কোচিং সেন্টারেই ঢুকছে। তাই নাইম দাঁড়িয়ে না থেকে নিজেও কোচিং সেন্টারে ঢুকে গেল। আর মেয়েটিকে লক্ষ করতে থাকলো। নাইম দেখলো মেয়েটি তাদের ক্লাসে এসেই বসলো। তাই নাইম বাইরে না দাঁড়িয়ে রুমে এসে বসে থাকলো। আর মাঝেমাঝে মেয়েটিকে দেখতে থাকলো। কিছুক্ষণ পরে ক্লাস শুরু হয়ে গেল। নাইম ক্লাসে মন দিল। মাঝেমাঝে মেয়েটির দিকে তাকাতেই দেখতে পায় মেয়েটি মুচকি মুচকি হাসছে। আর হাসিটাও প্রানবন্ত হাসি। সেদিনের মত এভাবেই ক্লাস শেষ হয়ে গেল। কোচিং শে...

গল্প: ফিরে আসা, লিখা-আয়েশা

আমার বরকে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে।আমাকে দেখেই মোবাইল টা ঘুরিয়ে রাখল।আমি কিছু বুঝতে দিলাম না।রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল পানি খাবো দেখলাম রায়হান সেই ভিডিও কল নিয়ে ব্যস্ত।আমি পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমন্ত ছোট্ট সোনামণি নওমির দিকে চোখ পড়ল।কি মায়া আমার সন্তানের মুখটি।ওর জন্য আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারি।আমি রায়হান আর আমার দেড় বছরের মেয়ে নওমি আমরা একটা ভাড়া বাসায় থাকি।লাভ মেরিজ করে বিয়ে করেছি।প্রথমে মেনে না নিলেও এখন মেনে নিয়েছে দুই পরিবার। প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করি আমরা।রায়হান আমাকে খুব ভালোবাসতো।আর বলতো তুমি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী।তখন মোহের কারনে বিশ্বাস করতাম আর অনেক খুশি হতাম  বিয়ের পরেও অনেক ভালোবাসা ছিল।কিন্তু নওমি পেটে আসার পর থেকে ও কেমন যেন হয়ে গেছে।এখন আর আমার দিকে তাকানোর ও সময় পায় না।ভালো করে কথাও বলে না।খুব ব্যস্ততা দেখায়।আগে আমাকে ছাড়া ভাত খেতে পারত না আর এখন বলেও না তুমি খেয়েছো কিনা। একদিন রাত বারোটার দিকে ঘুম ভেঙেছে, দেখলাম রায়হান পাশে নেই।পরে দেখলাম সোফায় শুয়ে শুয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছে কানে হেডফোন লাগিয়ে।আমি আর সহ্যকরতে পারলাম না টান দিয়ে ফোনট...