Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2022

অলক্ষ্মী

"চৌদ্দবছর বয়সে প্রথম জেনেছিলাম - আমার জন্মের খবর পেয়ে ঠাম্মা মাথায় হাত দিয়ে বারান্দায় বসে পড়েছিল। আমি, বাবা মার দ্বিতীয় কন্যা সন্তান। এই ঘটনার ঠিক দেড় বছর পর আমার ভাইয়ের জন্ম হয়। ঠাম্মা আমাকে সারাজীবন 'লক্ষ্মীছাড়ী' বলেই ডাকতো। ছোটবেলাতেই বুঝে গিয়েছিলাম বাড়ীতে আমার আর দিদির জন্য এক রকম ব্যবস্থা, আর ভাইয়ের জন্য অন্যরকম। পুজোয় ভাইয়ের জন্য চারটে জামা; আমার আর দিদির একটা একটা। ভাইয়ের টিফিনবক্সে আপেল-কলা-মিষ্টি। আমার-দিদির যা হোক কিছু। এসব কড়া নিয়মের বাইরে বেরোনোর ক্ষমতা আমার মায়ের ছিলনা।  দিদিও কখনো নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেনি। কিন্তু আমাকে বারবার ঠাম্মার কাছে শুনতে হয়েছেঃ *"এ মেয়ের বড় নোলা, ভীষন লোভ, এক্কেবারে অলক্ষ্মী এসেচে কোথা থেকে।"* তবুও আমার বায়নার অন্ত ছিলনা। মা মাঝে মাঝেই আমার বায়না মেটাতে, সবাই কে লুকিয়ে পয়সা দিত। দিদিকে কখনো কিছু চাইতে দেখিনি। আমি তখন ক্লাস সিক্স-এ। স্কুল থেকে ফিরে দেখি মা'র মুখ থমথমে। কিছু একটা হয়েছে আন্দাজ করতে পারছি। সন্ধ্যেবেলা পড়তে বসে দিদি বললঃ "তুই মা কে এত বিপদে ফেলিস কেন? আজ ঠাম্মা দেখেছে, মার থেকে লুকিয়ে পয়সা নিচ্ছিস।"  ...

ভালোবাসা ও পরকীয়া নামক ভণ্ডামি

 নারী-পুরুষের প্রেমের সম্পর্কের ধারণা, সেটা তারা বিবাহিত হোন বা না হোন, একেকজনের কাছে একেকরকম। আমার কাছে, একজনের সাথে আইনত বা আইন বহির্ভূত সম্পর্কে থেকে অভিনয়, ছলচাতুরি, হিসাব-নিকাশ এইসব করে আরেকজন পার্টনার রাখার চেয়ে ছ্যাচড়ামি আর হয় না। মানুষের মন একটা জটিল বিষয়, পরিবেশ-পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, সম্পর্কের মাত্রা পাল্টে যেতে পারে যেকোন মুহূর্তে। একজনের সাথে সম্পর্কে থেকে আরেকজনকে ভালো লাগতেই পারে, অন্যায় তাতে কিছু নাই। কিন্তু, গাছেরটাও খাব আর তলারটাও কুড়াবো, এটা ভাই মানা কঠিন।  অনেক ন্যাকা নারী-পুরুষ দেখেছি। ফেসবুকে স্বামী বা স্ত্রীর ছবি দিয়ে রোম্যান্টিসিজমের ছড়াছড়ি করবে আর গোপনে আরেকজনের আইনত পার্টনারকে ডিজায়ার করবে বা গোপনে সম্পর্ক রাখবে। অফিসে এসে নারী বা পুরুষ সহকর্মীদের আকারে-ঈঙ্গিতে প্রেম নিবেদন করবে আর দিন শেষে বাড়ি গিয়ে বউয়ের সাথে বাচ্চাকাচ্চাসহ আহ্লাদী হয়ে ফেসবুকে ছবি দিবে।  এরকম অনেক মহাপুরুষ বা নারী দেখেছি, বাচ্চাদের উসিলা দিয়ে সংসার ভাঙবে না ঠিকই, কিন্তু সারাক্ষণ ছোঁকছোঁক করে বেড়াবে। ইনিয়েবিনিয়ে নিজের বউ বা স্বামীর বদনাম করবে কিন্তু ভুলেও তাদের ছাড়বে না। ...

আমার কাউকে প্রয়োজন নেই

কেউ বলছে এখন তার আর কাউকে প্রয়োজন নাই মানে সে আগে থেকে এমন ছিলো এমনটা নয়, এরা হারাতে হারাতে এখন এখন আর পাওয়া কেও বিশ্বাস করে না, তাই বলে আমার আর কাউকে প্রয়োজন নাই।  আমার কাউকে প্রয়োজন নেই। আমি একা দিব্যি ভালো থাকতে পারি, আমার একাকিত্ব আমি একাই উপভোগ করি। আমার মন খারাপ হয় না, আমি যতটুকু সময় পাই নিজেকে সংশোধন করে চলি। নিজের ভুল গুলো শুধরে ফেলার চেষ্টায় মেতে থাকি। এই টাইপ মানুষগুলোর সাথে তর্কে যাবেন না, কারণ এরা অনেক ঘাতপ্রতি এরিয়ে আজ উঠে দাঁড়িয়েছে।  আপনার কি ধারনা এরা প্রথম থেকে এমন? কখনো না, এরাও জীবনে বহুবার খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, এদের বহু মানুষ ঠকিয়েছে। কেউ বন্ধু হয়ে কেউ বা কাছের মানুষ, শুধু ঠকায়নি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে সব শেষে ছেড়ে চলে গেছে। ভীষণ ভাবে কাঁদিয়েছে, ভীষণ যন্ত্রণার মধ্যে রেখে। এদেরকে মাঝ রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে, যেখান থেকে ফিরতে কষ্ট হলেও তারা ফিরে এসেছে।   কারণ  এদের নিজের প্রতি বিশ্বাস আর উদ্যম সাহসিকতা এদের বাঁচিয়ে রেখেছে, হয়তো ভেঙে পরছে কিন্তু অসহায় হয়ে পরেনি। মন খারাপ হলে এরা কারো কাছে যায় না, অযথা কারো কথায় কান দেয় না। নিজের কষ্ট গুলো ন...

বন্ধুত্ব

বেশিরভাগ সময়ই আমরা আশাকরি, আমরা যেভাবে আমাদের বন্ধুত্ব পালন করছি আমার বন্ধুও সেভাবেই আমাদের সাথে বন্ধুত্ব পালন করবে। দুজন মানুষের মন মানসিকতার মিল থাকলে বন্ধুত্ব হতেই পারে, আবার সময়ের সাথে এই ঘনিষ্ঠতাও কিন্তু বদলে যেতে পারে। আপনার সবচাইতে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথেও মতবিরোধ হতে পারে, কোনো কারনে এমনকি তুচ্ছ বিষয় নিয়েও ঝগড়া হওয়াও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু, ঘন ঘন যদি এমন হয়, আর একারনে আপনি এই নিয়ে মনঃকষ্টে ভুগতে থাকেন তাহলেই আপনার ভালো করে ভেবে দেখুন, এমন মানুষের সাথে আপনার বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা। যেমন; ১। আপনার বন্ধু যখন তার অন্য আর এক বন্ধুর উদাহরণ দিয়ে আপনাকে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করে, আপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট ভাবতে বাধ্য করে, আপনার মনে হিংসা হোক এমন সব কথা বলে। যেমন; আপনার বন্ধু প্রায়ই আপনাকে খোঁচা দিয়ে বলে তার অন্য বন্ধুরা আপনার চাইতে গুনে এবং মানে কতটা সেরা, তাদের মাঝে সম্পর্ক কত সুন্দর, তাদের সাথে সে কত মজার সময় কাটায়, অন্য বন্ধুরা তাকে কত কিছু উপহার দেয়। ২। যখনই আপনি আপনার বন্ধুর সাথে সময় কাটাতে যাবেন, সে শুধু নিজের বিষয় নিয়েই কথা বলতে পছন্দ, আপনার ক...