Skip to main content

বন্ধুত্ব

বেশিরভাগ সময়ই আমরা আশাকরি, আমরা যেভাবে আমাদের বন্ধুত্ব পালন করছি আমার বন্ধুও সেভাবেই আমাদের সাথে বন্ধুত্ব পালন করবে। দুজন মানুষের মন মানসিকতার মিল থাকলে বন্ধুত্ব হতেই পারে, আবার সময়ের সাথে এই ঘনিষ্ঠতাও কিন্তু বদলে যেতে পারে। আপনার সবচাইতে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথেও মতবিরোধ হতে পারে, কোনো কারনে এমনকি তুচ্ছ বিষয় নিয়েও ঝগড়া হওয়াও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু, ঘন ঘন যদি এমন হয়, আর একারনে আপনি এই নিয়ে মনঃকষ্টে ভুগতে থাকেন তাহলেই আপনার ভালো করে ভেবে দেখুন, এমন মানুষের সাথে আপনার বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা। যেমন;

বন্ধুত্ব


১। আপনার বন্ধু যখন তার অন্য আর এক বন্ধুর উদাহরণ দিয়ে আপনাকে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করে, আপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট ভাবতে বাধ্য করে, আপনার মনে হিংসা হোক এমন সব কথা বলে।

যেমন;

আপনার বন্ধু প্রায়ই আপনাকে খোঁচা দিয়ে বলে তার অন্য বন্ধুরা আপনার চাইতে গুনে এবং মানে কতটা সেরা, তাদের মাঝে সম্পর্ক কত সুন্দর, তাদের সাথে সে কত মজার সময় কাটায়, অন্য বন্ধুরা তাকে কত কিছু উপহার দেয়।

২। যখনই আপনি আপনার বন্ধুর সাথে সময় কাটাতে যাবেন, সে শুধু নিজের বিষয় নিয়েই কথা বলতে পছন্দ, আপনার কথা শুনবার কোনো আগ্রহ দেখায় না। যেমন;

দুজনের দেখা হলো অথবা ফোনে কথা বলেছেন, আপনার বন্ধু শুধু নিজের এই সেই বিষয় নিয়েই কথা বলে সময় পার করে দিলো, অথচ যেই আপনি নিজের কোনো বিষয় নিয়ে কথা চাইলেন, অমনি বলে দিলো সে এখন ব্যস্ত বা তার অন্য একটা ফোন কল আসছে এখন কথা বলার সময় নাই।

৩। আপনার বন্ধু আপনার সব কিছু নিয়েই সমালোচনা করে অথচ আপনি যদি তার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন সেওটা সহ্য করতে পারে না। যেমন;

সত্যিকার বন্ধু সেই যে আপনার বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করবে, যাতে আপনি নিজেক আরও উন্নত মানুষে পরিণত করতে পারেন। কিন্তু আপনার বন্ধু যদি বিষাক্ত ধরনের মানুষ হন তাহলে, আপনার কোনো ধরনের মানবিক উন্নতি পছন্দ করবে না বা আপনার কোনো গুনই তার কাছে কদর পাবে না। মনে করুন; আপনি বললেন ভাবছি জীমে যাবো, শুনেই আপনার বন্ধু এমন কিছু বলবে যে আপনার উৎসাহ নষ্ট হয়ে যাবে বা, আপনার চুলটা সুন্দর করে কাটালেন, দেখেই এমন মন্তব্য করবে যে আপনার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। এমন বন্ধু কেয়ারই করে না আপনার পছন্দ অপছন্দ, জানে শুধু আপনাকে হীনমন্য করতে। কিন্তু বলবার সময় বড় মুখ করে বলবে, “আমি তো তোর আসল বন্ধু আমি যদি না বলি কে বলবে, তাই সবসময় সত্যি কথা বলি তোর ভালোর জন্য”

বন্ধুত্ব


৪। আপনার বন্ধু যখনই ডাকবে আপনি ছুটে যাবেন কিন্তু আপনি যখন ডাকবেন প্রায়ই সে আসবে না।

যেমন; কথা ছিলো আপনার বন্ধু আপনার সাথে দুপুরের খাবার খাবে বা আপনারা দুজনে মিলে শপিঙে যাবেন, আপনি অপেক্ষা করে বসে আছেন কিন্তু তার দেখা নাই। আপনি ফোন করলেন, তখন বললো ওঃ আমিও ভুলেই গেছি তোর ওখানে যাবার কথাছিলো, কিছু মনে করিস না আমি এখন অমুকের সাথে বাইরে আসছি।

অন্যদিকে ও ডাকলেই আপনি যান, কিন্তু কথা দিয়েও কোনো কারনে আপনি যদি না যেতে পারেন, তাহলে আপনাকে যা ইচ্ছে তাই কথা শুনিয়ে দেয়।

৫। আপনি জানেন আপনার বন্ধুর সাথে আপনি বেশিরভাগ সময়ই ঠিক ব্যবহার কারার চেষ্টা করেন। কিন্তু;

কোনো বিষয় নিয়ে যদি আপনাদের কথা কাটাকাটি হয় বা মতবিরোধ হয়, আপনার বন্ধু সবসময় আপনাকেই দোষী সাব্যস্ত করবে। বলবে, “ তোর কাজই তুচ্ছ বিষয়কে জটিল করা, তোর ধৈর্য কম, সহ্য ক্ষমতা কম - - -ইত্যাদি ইত্যাদি।” এককথায়, সে সব কিছুতেই পারফেক্ট আর আপনি কিছুই না একটা আবাল!

৬। আপনার বন্ধুর আচরণ নিয়ে আপনি মনে মনে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকেন। যেমন;

আপনি সবসময় একটা দোলাচলে ভোগেন, না জানি আপনার বন্ধু কখন কেমন মুডে থাকে। মনে করেন, গতকালই আপনারা দুজনে মিলে কোথাও ঘুরতে গিয়েছিলেন বা ফোনে অনেকক্ষণ সুন্দর গল্প করলেন, কিন্তু আজ যখন কোনো কারনে আপনি তাকে ফোন করলেন, আপনাকে পাত্তাই দিলো না। এমন যদি হয় তাহলে স্বভাবতই আপনি খুব মনঃক্ষুণ্ণ হবেন, আপনি জানতেও চাইলেন কি হয়েছে? সঠিক জবাব তো পেলেনই না উল্টা নানা কটু কথা শুনলেন, তখন নিজেই আপনি দ্বন্দ্বে পড়ে যাবেন কোথায় আপনার ভুল হয়ে গেলো।

৭। আপনি সবসময় সতর্ক থাকেন, যেন এমন কিছু না বলেন যাতে আপনার বন্ধু রেগে যায়। যেমন;

আপনার বন্ধু আপনার সাথে প্রায়ই অসদ্ব্যবহার করে আপনার ভালো লাগা মন্দ লাগার তোয়াক্কা না করেই। ওর সাথে দেখা হলেই আপনি আতঙ্কে থাকেন, এই বুঝি ঝাড়ি খেলেন। আপনারা যদি ভালো বন্ধু হন তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন আপনাকে সবসময় মেপেঝুঁকে কথা বলতে হবে?

বন্ধুত্ব


বন্ধু আপনার জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলে আপনাকে দীর্ঘায়ু করে, প্রেমিকের ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী হতে পার কিন্তু বন্ধুত্ব সারাজীবনের জন্য। আর এমন ভেবেই আমরা অনেক সময় বিষাক্ত বন্ধুত্বর ইতি ঘটাতে পিছপা হই। কিন্তু এমন বন্ধুত্ব আপনাকে ভালো কিছু দেয়ার চাইতে ক্ষতিগ্রস্তই করে বেশি।কিছু মানুষের স্বভাব আছে একগাদা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করার, তাদের ধারনা অসংখ্য বন্ধু থাকলে লোকের কাছে তাদের ইমেজ খুব উজ্জ্বল হবে, লোকে ভাববে তাঁরা খুবই জনপ্রিয় মানুষ তাই তাদের প্রচুর বন্ধু। এমন মানুষদের সাথেও বন্ধুত্ব না করাই ভালো। কারন, এমন মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব হলে, আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন, আপনার ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাবে, মনের শান্তির চাইতে অশান্তি বেশি বোধ করবেন- - - - এমন বন্ধুত্বের ইতি করতে ভয় পাবেন না। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, অবশ্যই একজন ভালো বন্ধুর দেখা পাবেন।

Comments

Popular posts from this blog

জীবনের আশা

নাইম ফোন হাতে রেখেই চুপ করে বসে পরলো। বসে নিজের কাছে নিজের কথা বলতে থাকলো। এই কি সেই ঝুমুর!! যার জন্য নাইম এতকিছু করলো। আর সেই ঝুমুর আজ এমন হয়ে গেল? তিন বছরের বেশি সময় ঝুমুরের সাথে নাইমের প্রেমের সম্পর্ক। প্রথমদিকে ভাল গেলেও আজ নাই নাই অবস্থায় পরে রয়েছে। আজ সেই প্রথম দিনগুলোর কথা মনে পরে যাচ্ছে। তিন বছর আগে, নাইম কোচিং সেন্টারে এসে বসে আছে। আজ মনেহয় আগেই চলে এসেছে। তাই, নিজে নিজে অসস্তিতে ভুগছে। তাই বসে থাকতে ভাল লাগছে না। নাইম বাইরে এসে অনেককেই আসতে যেতে দেখছে। কাউকে চেনা আবার কাউকে অচেনা। হঠাৎ নাইম একটা মেয়েকে তার দিকেই আসতে দেখলো। মেয়েটি কাছাকাছি আসতে মনেহল সে কোচিং সেন্টারেই ঢুকছে। তাই নাইম দাঁড়িয়ে না থেকে নিজেও কোচিং সেন্টারে ঢুকে গেল। আর মেয়েটিকে লক্ষ করতে থাকলো। নাইম দেখলো মেয়েটি তাদের ক্লাসে এসেই বসলো। তাই নাইম বাইরে না দাঁড়িয়ে রুমে এসে বসে থাকলো। আর মাঝেমাঝে মেয়েটিকে দেখতে থাকলো। কিছুক্ষণ পরে ক্লাস শুরু হয়ে গেল। নাইম ক্লাসে মন দিল। মাঝেমাঝে মেয়েটির দিকে তাকাতেই দেখতে পায় মেয়েটি মুচকি মুচকি হাসছে। আর হাসিটাও প্রানবন্ত হাসি। সেদিনের মত এভাবেই ক্লাস শেষ হয়ে গেল। কোচিং শে...

গল্প: ফিরে আসা, লিখা-আয়েশা

আমার বরকে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে।আমাকে দেখেই মোবাইল টা ঘুরিয়ে রাখল।আমি কিছু বুঝতে দিলাম না।রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল পানি খাবো দেখলাম রায়হান সেই ভিডিও কল নিয়ে ব্যস্ত।আমি পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমন্ত ছোট্ট সোনামণি নওমির দিকে চোখ পড়ল।কি মায়া আমার সন্তানের মুখটি।ওর জন্য আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারি।আমি রায়হান আর আমার দেড় বছরের মেয়ে নওমি আমরা একটা ভাড়া বাসায় থাকি।লাভ মেরিজ করে বিয়ে করেছি।প্রথমে মেনে না নিলেও এখন মেনে নিয়েছে দুই পরিবার। প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করি আমরা।রায়হান আমাকে খুব ভালোবাসতো।আর বলতো তুমি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী।তখন মোহের কারনে বিশ্বাস করতাম আর অনেক খুশি হতাম  বিয়ের পরেও অনেক ভালোবাসা ছিল।কিন্তু নওমি পেটে আসার পর থেকে ও কেমন যেন হয়ে গেছে।এখন আর আমার দিকে তাকানোর ও সময় পায় না।ভালো করে কথাও বলে না।খুব ব্যস্ততা দেখায়।আগে আমাকে ছাড়া ভাত খেতে পারত না আর এখন বলেও না তুমি খেয়েছো কিনা। একদিন রাত বারোটার দিকে ঘুম ভেঙেছে, দেখলাম রায়হান পাশে নেই।পরে দেখলাম সোফায় শুয়ে শুয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছে কানে হেডফোন লাগিয়ে।আমি আর সহ্যকরতে পারলাম না টান দিয়ে ফোনট...

নিঃশব্দ ভালবাসা -- শেখ শরিফ জয়

--- আমাকে একটু ভালবাসবি? --- কেন? --- মানুষ ভালবাসে কেন জানিস না? --- না। তুই বল! --- সাদা কালো জীবনটা রঙিন করার জন্য ভালবাসে। --- তাহলে থাক। আমার জীবন এমনিতেই রঙিন। --- কিন্তু আমার জীবনতো সাদা কালো রং চটা। --- তাতে আমি কি করবো? --- সেই জন্যইতো আমার একটু ভালবাসার রং দরকার। যে রং দিয়ে আমার জীবনটা রঙিন করতে পারি। --- না ,আমি পারবো না। --- আমি জানি তুই পারবি। প্লীজ একটু চেষ্টা করে দেখ। --- আচ্ছা তাহলে দেখি। .. কিছু সময় পর ,,, .. --- কিছু চেষ্টা করে দেখলি? --- দেখছি তবে হয় না রে। --- কি বলিস! হবেনা কেন! হবে। চোখ দুটো বন্ধ করে দেখ পারবি। --- কেনো! চোখ বন্ধ করে কি মানুষকে ভালবাসতে হয়? --- হুম চোখ বন্ধ করে ভালবাসতে হয়। --- তাহলে থাক। আমি অন্ধের মত ভালবাসতে পারবো না। --- তুই যেভাবে ভালোবাসতে চাস সেই ভাবেই ভালবাসিস। তবুও ভালবাস। --- আচ্ছা তোকে ভালবাসলে আমাকে কি দিবি? --- তোর জন্য এনে দেব একশত একটা লাল পদ্ম। মধ্য কপালে ঠাঁই পাবে নীল টিপ। নরম কোমল হাতে পরিয়ে দেব কাঁচের এত্ত গুলা চুড়ি। কালো ক্যাশে গুজে দেব রজনীগন্ধা। --- না থাক। --- কেন ! আবার কি হল? --- তোর এ...