Skip to main content

ভালোবাসা ও পরকীয়া নামক ভণ্ডামি

 নারী-পুরুষের প্রেমের সম্পর্কের ধারণা, সেটা তারা বিবাহিত হোন বা না হোন, একেকজনের কাছে একেকরকম। আমার কাছে, একজনের সাথে আইনত বা আইন বহির্ভূত সম্পর্কে থেকে অভিনয়, ছলচাতুরি, হিসাব-নিকাশ এইসব করে আরেকজন পার্টনার রাখার চেয়ে ছ্যাচড়ামি আর হয় না। মানুষের মন একটা জটিল বিষয়, পরিবেশ-পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, সম্পর্কের মাত্রা পাল্টে যেতে পারে যেকোন মুহূর্তে। একজনের সাথে সম্পর্কে থেকে আরেকজনকে ভালো লাগতেই পারে, অন্যায় তাতে কিছু নাই। কিন্তু, গাছেরটাও খাব আর তলারটাও কুড়াবো, এটা ভাই মানা কঠিন। 

ভালোবাসা ও পরকীয়া নামক ভণ্ডামি


অনেক ন্যাকা নারী-পুরুষ দেখেছি। ফেসবুকে স্বামী বা স্ত্রীর ছবি দিয়ে রোম্যান্টিসিজমের ছড়াছড়ি করবে আর গোপনে আরেকজনের আইনত পার্টনারকে ডিজায়ার করবে বা গোপনে সম্পর্ক রাখবে। অফিসে এসে নারী বা পুরুষ সহকর্মীদের আকারে-ঈঙ্গিতে প্রেম নিবেদন করবে আর দিন শেষে বাড়ি গিয়ে বউয়ের সাথে বাচ্চাকাচ্চাসহ আহ্লাদী হয়ে ফেসবুকে ছবি দিবে। 


এরকম অনেক মহাপুরুষ বা নারী দেখেছি, বাচ্চাদের উসিলা দিয়ে সংসার ভাঙবে না ঠিকই, কিন্তু সারাক্ষণ ছোঁকছোঁক করে বেড়াবে। ইনিয়েবিনিয়ে নিজের বউ বা স্বামীর বদনাম করবে কিন্তু ভুলেও তাদের ছাড়বে না। নারী-পুরুষ উভয়েই এসব সম্পর্কের মজা নিবে আর দিন শেষে বলবে, পরিবারের চেয়ে বড় কিছু নাই। 


নিজের বাচ্চার বাবা বা মাকে ঠকিয়ে অন্য নারী বা পুরুষে মজে থাকবে, তাতে কোন সমস্যাই নাই। কিন্তু, কেউ যদি সংসার ভেঙে নিজের মতো মুক্ত হতে চায়, পার্টনারকে ঠকাতে না চায়, সত্যটা বলে সংসার থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তখন ওই ব্যক্তিত্বহীন, সুবিধাভোগী লোক এবং মহিলাগুলাই তার পিছে লেগে যাবে। বাচ্চার বাবা বা মাকে ঠকিয়ে অন্যকারো সাথে সম্পর্কে গেলে বাচ্চার কোন ক্ষতি হবে না, বাচ্চার ট্রমা হবে না, খালি সংসার ভেঙে কেউ চলে গেলে তাতেই বাচ্চার ক্ষতি হয়ে যাবে। 


আমি নিজেই এরকম অন্তত পাঁচ-দশটা অসৎ লোক দেখেছি, যারা নিজেরা বিবাহিত এবং আমি বিবাহিত জেনেও ইনিয়েবিনিয়ে প্রেম নিবেদন করতে আসত। কিন্তু, আমি যখন সংসার ভাঙলাম তারাই আবার আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে গেল। আমার এক্সের সাথে দল করে আমাকে হেনস্তা করতে শুরু করল। 


এরকম একজন, তার স্ত্রীর পরের দিন সিজারিয়ান অপারেশন, সে আগের দিন রাতেও আমাকে ডিনারের জন্য চাপাচাপি করতে লাগল। সেই ছেলেই নাকি আমার বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারে না। কয়েকমাস পরে শুনি সে আরেকজনের বউ নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে বউ-বাচ্চার কাছে ধরা খেয়েছে। তাতে তার বাচ্চাদের কোন ক্ষতিই হয়নি, তাইতো? 


এরকম অনেক নারীও দেখেছি। স্বামীর টাকা আর ক্ষমতার জন্য তাকে ছাড়বে না আবার প্রেমিকও রাখবে। কাজের নাম করে সারাদিন সহকর্মী কাম প্রেমিকের সাথে ঘুরবে, কিন্তু বাড়ি এসে স্বামীর সাথে ছবি দিয়ে ফেসবুক ভরিয়ে রাখবে। 


ভাই, আমার মতে অশান্তি করে, চিট করে বাবা-মা একসাথে থাকার চেয়ে সম্মান নিয়ে নিজেদের মতো আলাদা থাকাটাই সন্তানের জন্য অনেকবেশি হেলদি। আমার বাবা-মা ছ্যাচড়া বা চোরামি করছে এই ফিলের চেয়ে আমার বাবা-মা যার‍ যার সম্মান নিয়ে আলাদা আছে এই ফিলটা বেশি সম্মানের। আমার কাছে পার্টনারকে ঠকিয়ে সংসার ধরে রেখে ভালোমানুষ সাজার চেয়ে সত্য বলে সংসারের ইতি টানাটা বাচ্চাদের জন্য বেশি মঙ্গলজনক। 


এখানে ভণ্ডামির কোন সুযোগ নাই। ভণ্ডরা বিশহাত দূরে থাকুন। আমি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। আমি স্বাভাবিক জীবনে বিশ্বাসী। আমাকে জ্ঞান দিতে আসার আগে নিজের কর্মকাণ্ড একবার রিভিউ করে আসবেন, মুখ খুললে আপনাদের আম এবং ছালা দুটোই যাবে। ওকে?

Comments

Popular posts from this blog

জীবনের আশা

নাইম ফোন হাতে রেখেই চুপ করে বসে পরলো। বসে নিজের কাছে নিজের কথা বলতে থাকলো। এই কি সেই ঝুমুর!! যার জন্য নাইম এতকিছু করলো। আর সেই ঝুমুর আজ এমন হয়ে গেল? তিন বছরের বেশি সময় ঝুমুরের সাথে নাইমের প্রেমের সম্পর্ক। প্রথমদিকে ভাল গেলেও আজ নাই নাই অবস্থায় পরে রয়েছে। আজ সেই প্রথম দিনগুলোর কথা মনে পরে যাচ্ছে। তিন বছর আগে, নাইম কোচিং সেন্টারে এসে বসে আছে। আজ মনেহয় আগেই চলে এসেছে। তাই, নিজে নিজে অসস্তিতে ভুগছে। তাই বসে থাকতে ভাল লাগছে না। নাইম বাইরে এসে অনেককেই আসতে যেতে দেখছে। কাউকে চেনা আবার কাউকে অচেনা। হঠাৎ নাইম একটা মেয়েকে তার দিকেই আসতে দেখলো। মেয়েটি কাছাকাছি আসতে মনেহল সে কোচিং সেন্টারেই ঢুকছে। তাই নাইম দাঁড়িয়ে না থেকে নিজেও কোচিং সেন্টারে ঢুকে গেল। আর মেয়েটিকে লক্ষ করতে থাকলো। নাইম দেখলো মেয়েটি তাদের ক্লাসে এসেই বসলো। তাই নাইম বাইরে না দাঁড়িয়ে রুমে এসে বসে থাকলো। আর মাঝেমাঝে মেয়েটিকে দেখতে থাকলো। কিছুক্ষণ পরে ক্লাস শুরু হয়ে গেল। নাইম ক্লাসে মন দিল। মাঝেমাঝে মেয়েটির দিকে তাকাতেই দেখতে পায় মেয়েটি মুচকি মুচকি হাসছে। আর হাসিটাও প্রানবন্ত হাসি। সেদিনের মত এভাবেই ক্লাস শেষ হয়ে গেল। কোচিং শে...

গল্প: ফিরে আসা, লিখা-আয়েশা

আমার বরকে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে।আমাকে দেখেই মোবাইল টা ঘুরিয়ে রাখল।আমি কিছু বুঝতে দিলাম না।রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল পানি খাবো দেখলাম রায়হান সেই ভিডিও কল নিয়ে ব্যস্ত।আমি পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমন্ত ছোট্ট সোনামণি নওমির দিকে চোখ পড়ল।কি মায়া আমার সন্তানের মুখটি।ওর জন্য আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারি।আমি রায়হান আর আমার দেড় বছরের মেয়ে নওমি আমরা একটা ভাড়া বাসায় থাকি।লাভ মেরিজ করে বিয়ে করেছি।প্রথমে মেনে না নিলেও এখন মেনে নিয়েছে দুই পরিবার। প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করি আমরা।রায়হান আমাকে খুব ভালোবাসতো।আর বলতো তুমি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী।তখন মোহের কারনে বিশ্বাস করতাম আর অনেক খুশি হতাম  বিয়ের পরেও অনেক ভালোবাসা ছিল।কিন্তু নওমি পেটে আসার পর থেকে ও কেমন যেন হয়ে গেছে।এখন আর আমার দিকে তাকানোর ও সময় পায় না।ভালো করে কথাও বলে না।খুব ব্যস্ততা দেখায়।আগে আমাকে ছাড়া ভাত খেতে পারত না আর এখন বলেও না তুমি খেয়েছো কিনা। একদিন রাত বারোটার দিকে ঘুম ভেঙেছে, দেখলাম রায়হান পাশে নেই।পরে দেখলাম সোফায় শুয়ে শুয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছে কানে হেডফোন লাগিয়ে।আমি আর সহ্যকরতে পারলাম না টান দিয়ে ফোনট...

নিঃশব্দ ভালবাসা -- শেখ শরিফ জয়

--- আমাকে একটু ভালবাসবি? --- কেন? --- মানুষ ভালবাসে কেন জানিস না? --- না। তুই বল! --- সাদা কালো জীবনটা রঙিন করার জন্য ভালবাসে। --- তাহলে থাক। আমার জীবন এমনিতেই রঙিন। --- কিন্তু আমার জীবনতো সাদা কালো রং চটা। --- তাতে আমি কি করবো? --- সেই জন্যইতো আমার একটু ভালবাসার রং দরকার। যে রং দিয়ে আমার জীবনটা রঙিন করতে পারি। --- না ,আমি পারবো না। --- আমি জানি তুই পারবি। প্লীজ একটু চেষ্টা করে দেখ। --- আচ্ছা তাহলে দেখি। .. কিছু সময় পর ,,, .. --- কিছু চেষ্টা করে দেখলি? --- দেখছি তবে হয় না রে। --- কি বলিস! হবেনা কেন! হবে। চোখ দুটো বন্ধ করে দেখ পারবি। --- কেনো! চোখ বন্ধ করে কি মানুষকে ভালবাসতে হয়? --- হুম চোখ বন্ধ করে ভালবাসতে হয়। --- তাহলে থাক। আমি অন্ধের মত ভালবাসতে পারবো না। --- তুই যেভাবে ভালোবাসতে চাস সেই ভাবেই ভালবাসিস। তবুও ভালবাস। --- আচ্ছা তোকে ভালবাসলে আমাকে কি দিবি? --- তোর জন্য এনে দেব একশত একটা লাল পদ্ম। মধ্য কপালে ঠাঁই পাবে নীল টিপ। নরম কোমল হাতে পরিয়ে দেব কাঁচের এত্ত গুলা চুড়ি। কালো ক্যাশে গুজে দেব রজনীগন্ধা। --- না থাক। --- কেন ! আবার কি হল? --- তোর এ...