-- তুমি কি ভা-র্জিন? আমি তোমার ভা-র্জিনিটি পরিক্ষা করতে চাই বিয়ের আগেই।
হবু স্বামীর এর মুখে এমন প্রশ্ন শুনে ভেবাচেকা খেয়ে বসে আইরিন। মেয়েটার মুখের হাসি নিমিষেই বিলীন হয়ে যায়। কালো মেঘে ঢেকে যায় মেয়েটির পুরো মুখ। সে এমন একটা প্রশ্নের সামনে পড়বে ভাবতেই পারছেনা। চুপ হয়ে মাথা নিছু করে দাঁড়িয়ে থাকে লজ্জায়।
-- কি হলো কথা বলছ না কেন? তুমি কি ভার্জিন? নাকি অন্য পুরুষের সাথেও শারিরীক সম্পর্ক হয়েছে বিয়ের আগেই? আজকালকার মেয়েদের প্রতি বিশ্বাস নেই।
নিরবের মুখে এমন কথা শুনে আইরিন যেনো স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবার আইরিন মুখ খুলে বলল -- আপনি কীসব যা-তা প্রশ্ন করছেন আমাকে?
-- যা-তা প্রশ্ন কখন করলাম? আমার হবু বউ আমার তো জানার দরকার আছে তাইনা? আমি তো আর দেখেশুনে কাঁদায় পা দিতে যাবনা।
-- আশাকরি আপনি আমার ব্যপারে সবধরনের খোঁজ নিয়েই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন! আর আজ আমাদের প্রথম মিট ছিলো। আপনার এই প্রশ্নটা আমার কাছে ভালো লাগেনি। আর আপনি কি ভাবে আমার ভার্জিনিটি পরিক্ষা করবেন? এইটা ঠিক আমি বুঝলাম না।
-- দূর থেকে তো আর বুঝা সম্ভব না।
-- তাহলে?
-- আমি চাই বিয়ের আগে তুমি আমার সাথে এক রাত থাকবে। তুমি যদি ভার্জিন হও তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করব।
-- বাহ! অসাধারণ। আপনার তুলো না হয়না। সরি আমি। এই কথা বলে আইরিন হাটা শুরু করে।
-- আরে কোথায় যাচ্ছ তুমি? আমার তো এখনও কোনো কিছু জানা হয়নি।
-- আপনি আর কি জানতে চান? আমার সময় নেই তাড়াতাড়ি বলুন।
-- আমিতো এখনও আমার সেই প্রশ্নের উত্তর পেলাম না।
-- হ্যাঁ আমি ভার্জিন। আজ অব্দি আমি কোনো পুরুষের সামনে তো দূরের কথা কথাও বলিনি।
-- বাহ! এই যুগে এমন মেয়ে এখনও আছে? ভাবতেই পারছিনা।
নিরবের গা জালানো কথা আইরিনের কাছে মোটেও ভালো লাগছেনা। আইরিন এবার রাগী কণ্ঠে বলল -- আপনি কেমন মানুষ সেটাও আমার জানা হয়ে গিয়েছে। নিজে যেমন অন্যদের তেমন ভাবেন। আগে নিজের চরিত্র ঠিক করুন তারপর অন্যের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন।
এই কথা বলে আইরিন নিজের বাসার দিকে চলে গেলো। নিরব এখনও দাঁড়িয়ে আছে। আইরিনের এসব কথা শুনে নিরব রাগে জ্বলতে থাকে। নিরব রেগেমেগে নিজের বাসায় চলে গেলো।
আইরিন পায়ে হেটেই বাসায় যাচ্ছে। ছোট করে আইরিন এর পরিচয় দিয়ে দেই। আইরিনের পুরো নাম, আইরিন রহমান। আইরিন মাত্র ইন্টার পরিক্ষা দিয়েছে। আইরিন তার সৎ মায়ের কাছে বড় হয়েছে। আইরিন আরো পড়াশোনা করতে চায় কিন্তু তার সৎ মা আর তার পিছনে কোনো টাকা খরচ করতে ইচ্চুক না। কারণ তার আরেকটা মেয়ে আছে। তার নাম নুসরাত। আইরিনের বাবা থেকেও না থাকার মতোই। কারণ বাবা তার বউয়ের কথা শুনে বেশি। আইরিনের বাবা রহিম সাহেব আইরিন কে খুব বেশি ভালোবাসে কিন্তু বউয়ের ভয়ে মেয়ের সাথে কথা অব্দি বলতে পারেনা।
এবার মূল গল্পে ফিরে যাই। আইরিন ইতিমধ্যে বাসার সামনে পৌছে গেছে। বাসার দরজায় কলিং বেল বাজাতেই আইরিনের সৎ মা নীলিমা বেগম এসে দরজা খুলে দেয়।
-- কিরে দেখা হয়েছে?
-- হুম হয়েছে। আমি এই বিয়ে করবোনা মা।
আইরিনের কথা শুনে নীলিমা বেগম রেগে গিয়ে বলল -- তুই বিয়ে করবিনা মানে কি? কতো কষ্ট করে একটা ছেলে পেয়েছি। এমন ছেলে লাখে একটা পাওয়া যায়। আর তুই বলছিস বিয়ে করবিনা মগেরমুল্লুক পাইছিস নাকি? জন্মের সময় তো নিজের মাকে খেলি এখন কি আমাদের না খেয়ে তোর শান্তি হচ্ছেনা?
-- মা, ছেলেটা ভালো না।
-- কেন ছেলে কি করছে তোর সাথে?
মা-মেয়ের চিৎকার চেচামেচি শুনে আইরিনের বাবা রহিম সাহেব চলে আসে।
-- কি হয়েছে তোমাদের? এতো চিৎকার চেচামেচি কিসের?
-- তোমার আদরের মেয়ে, ঐ ছেলেকে বিয়ে করবেনা। সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে মহারানী এখন বলে বিয়ে করবেনা।
রহিম সাহেব এবার আইরিনের কাছে গিয়ে বলল -- কিরে কি হয়েছে? তুই বিয়ে করবিনা কেন?
-- বাবা ছেলেটা ভালো না। আমাকে বাজে কথা বলছে।
নীলিমা বেগম বলল -- কি বাজে কথা বলছে শুনি! তুই বল কি বলছে তোকে?
-- মা আমি তোমাদের কি ভাবে বলব? এসব কথা আমি মুখেও আনতে পারছিনা।
আইরিনের কথা শুনে তার সৎ মা রেগে যায় আর আইরিনের চুলের মুঠি টেনে ধরে।
-- তোকে বলতে বলছি, না বলে এতো নাটক কেন করিস?
-- আহহ মা লাগছে ছেড়ে দাও প্লিজ। আমি বলছি।
-- বল তাড়াতাড়ি।
এবার আইরিন মাথা নিচু করে সব বলে দিল। মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে রহিম সাহেব বলল -- ছেলেটার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে আমি দেবোনা। কিছুতেই না।
রহিম সাহেবের কথা শুনে তার স্ত্রী রহিম সাহেবকে একটা ধমক দিয়ে বলল -- তোমার মেয়ে যদি এতোটা ধোয়া তুলসীপাতা হয় তাহলে ওর সাথে রাত কাটালে সমস্যা কিসের? ঐ ছেলের সাথে তো তার বিয়ে হবেই।
আইরিন নিজের চোখের পানি মুছে বলল -- ছিহ মা, তোমাকে আমার কিছু বলার নেই। আজ আমার যায়গায় যদি তোমার নিজের মেয়ে থাকতো তাহলে তুমি এই কথা বলতে পারতে? পারতেনা। আজ আমি তোমার নিজের মেয়ে না বলে এই ভাবে বলতে পারছো। আমি তো তোমাকে নিজের মায়ের মতোই দেখি। আমার ভাবতেও খারাপ লাগছে।
এই কথা বলে আইরিন চলে গেলো নিজের রুমে। আর সে রুমে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এই দিকে নীলিমা বেগম রেগে যায়।
-- দেখেছ? তোমার মেয়ে আমাকে কি বলে চলে গেলো?
-- আমি আর কি বলব? এই পরিবারে আমার কোনো কথার কি মূল্য আছে? এটা তোমাদের ব্যাপার তোমরা বুঝবে। আমার কী মনে হয় জানো? তুমি বাড়াবাড়িটা একটু বেশিই করছ।
-- এখন তুমিও শুরু করলে? তোমার জন্যই এই মেয়ে আমার মুখের উপরে এতো বড় কথা বলার সাহস পেয়েছে।
-- নিজের দোষেই শুনেছ কথা।
এই কথা বলে রহিম সাহেব ও চলে গেলো। নীলিমা বেগম রেগে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে। আর মনে মনে বলতে থাকে এদের কিছু একটা করতে হবে। দুজনেই খুব বেড়ে গেছে। এসব ভাবতে ভাবতে নীলিমা বেগমের ফোন বেজে ওঠে। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে নিরবের নাম্বার। নীলিমা বেগম তাড়াতাড়ি করে ফোন রিসিভ করে।
-- কেমন আছো তুমি বাবা?
-- আমার কথা বাদ দেন। আপনি জানেন আপনার মেয়ে আমার সাথে কি করছে? আমাকে যা-তা বলে অপমান করছে।
-- বাবা ওর হয়ে আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। ছোট মানুষ ও,কিছুই বুঝে-না।
-- যে ভাবেই হোক আইরিনকে বিয়ের জন্য রাজি করিয়ে নিন। আগামী শুক্রবার আমি আইরিনকে বিয়ে করতে চাই।
পর্ব১
Comments
Post a Comment