Skip to main content

গল্পঃ তিক্ততার - লিখনি: সবুজ

 -- তুমি কি ভা-র্জিন? আমি তোমার ভা-র্জিনিটি পরিক্ষা করতে চাই বিয়ের আগেই।

সৎ মায়ের অত্যাচারের গল্প তিক্ততা
ছবি ক্রেডিট: quora.com

হবু স্বামীর এর মুখে এমন প্রশ্ন শুনে ভেবাচেকা খেয়ে বসে আইরিন। মেয়েটার মুখের হাসি নিমিষেই বিলীন হয়ে যায়। কালো মেঘে ঢেকে যায় মেয়েটির পুরো মুখ। সে এমন একটা প্রশ্নের সামনে পড়বে ভাবতেই পারছেনা। চুপ হয়ে মাথা নিছু করে দাঁড়িয়ে থাকে লজ্জায়। 


-- কি হলো কথা বলছ না কেন? তুমি কি ভার্জিন? নাকি অন্য পুরুষের সাথেও শারিরীক সম্পর্ক হয়েছে বিয়ের আগেই? আজকালকার মেয়েদের প্রতি বিশ্বাস নেই। 


নিরবের মুখে এমন কথা শুনে আইরিন যেনো স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবার আইরিন মুখ খুলে বলল -- আপনি কীসব যা-তা প্রশ্ন করছেন আমাকে? 


-- যা-তা প্রশ্ন কখন করলাম? আমার হবু বউ আমার তো জানার দরকার আছে তাইনা? আমি তো আর দেখেশুনে কাঁদায় পা দিতে যাবনা। 

-- আশাকরি আপনি আমার ব্যপারে সবধরনের খোঁজ নিয়েই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন! আর আজ আমাদের প্রথম মিট ছিলো। আপনার এই প্রশ্নটা আমার কাছে ভালো লাগেনি। আর আপনি কি ভাবে আমার ভার্জিনিটি পরিক্ষা করবেন? এইটা ঠিক আমি বুঝলাম না। 

-- দূর থেকে তো আর বুঝা সম্ভব না। 

-- তাহলে? 

-- আমি চাই বিয়ের আগে তুমি আমার সাথে এক রাত থাকবে। তুমি যদি ভার্জিন হও তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করব। 

-- বাহ! অসাধারণ। আপনার তুলো না হয়না। সরি আমি। এই কথা বলে আইরিন হাটা শুরু করে। 

-- আরে কোথায় যাচ্ছ তুমি? আমার তো এখনও কোনো কিছু জানা হয়নি। 

-- আপনি আর কি জানতে চান? আমার সময় নেই তাড়াতাড়ি বলুন। 

-- আমিতো এখনও আমার সেই প্রশ্নের উত্তর পেলাম না। 

-- হ্যাঁ আমি ভার্জিন। আজ অব্দি আমি কোনো পুরুষের সামনে তো দূরের কথা কথাও বলিনি। 

-- বাহ! এই যুগে এমন মেয়ে এখনও আছে? ভাবতেই পারছিনা। 


নিরবের গা জালানো কথা আইরিনের কাছে মোটেও ভালো লাগছেনা। আইরিন এবার রাগী কণ্ঠে বলল -- আপনি কেমন মানুষ সেটাও আমার জানা হয়ে গিয়েছে। নিজে যেমন অন্যদের তেমন ভাবেন। আগে নিজের চরিত্র ঠিক করুন তারপর অন্যের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। 


এই কথা বলে আইরিন নিজের বাসার দিকে চলে গেলো। নিরব এখনও দাঁড়িয়ে আছে। আইরিনের এসব কথা শুনে নিরব রাগে জ্বলতে থাকে। নিরব রেগেমেগে নিজের বাসায় চলে গেলো। 


আইরিন পায়ে হেটেই বাসায় যাচ্ছে। ছোট করে আইরিন এর পরিচয় দিয়ে দেই। আইরিনের পুরো নাম, আইরিন রহমান। আইরিন মাত্র ইন্টার পরিক্ষা দিয়েছে। আইরিন তার সৎ মায়ের কাছে বড় হয়েছে। আইরিন আরো পড়াশোনা করতে চায় কিন্তু তার সৎ মা আর তার পিছনে কোনো টাকা খরচ করতে ইচ্চুক না। কারণ তার আরেকটা মেয়ে আছে। তার নাম নুসরাত। আইরিনের বাবা থেকেও না থাকার মতোই। কারণ বাবা তার বউয়ের কথা শুনে বেশি। আইরিনের বাবা রহিম সাহেব আইরিন কে খুব বেশি ভালোবাসে কিন্তু বউয়ের ভয়ে মেয়ের সাথে কথা অব্দি বলতে পারেনা। 


এবার মূল গল্পে ফিরে যাই। আইরিন ইতিমধ্যে বাসার সামনে পৌছে গেছে। বাসার দরজায় কলিং বেল বাজাতেই আইরিনের সৎ মা নীলিমা বেগম এসে দরজা খুলে দেয়। 


-- কিরে দেখা হয়েছে?  

-- হুম হয়েছে। আমি এই বিয়ে করবোনা মা। 


আইরিনের কথা শুনে নীলিমা বেগম রেগে গিয়ে বলল -- তুই বিয়ে করবিনা মানে কি? কতো কষ্ট করে একটা ছেলে পেয়েছি। এমন ছেলে লাখে একটা পাওয়া যায়। আর তুই বলছিস বিয়ে করবিনা মগেরমুল্লুক পাইছিস নাকি? জন্মের সময় তো নিজের মাকে খেলি এখন কি আমাদের না খেয়ে তোর শান্তি হচ্ছেনা?  


-- মা, ছেলেটা ভালো না। 

-- কেন ছেলে কি করছে তোর সাথে? 


মা-মেয়ের চিৎকার চেচামেচি শুনে আইরিনের বাবা রহিম সাহেব চলে আসে। 


-- কি হয়েছে তোমাদের? এতো চিৎকার চেচামেচি কিসের? 

-- তোমার আদরের মেয়ে, ঐ ছেলেকে বিয়ে করবেনা। সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে মহারানী এখন বলে বিয়ে করবেনা। 

রহিম সাহেব এবার আইরিনের কাছে গিয়ে বলল -- কিরে কি হয়েছে? তুই বিয়ে করবিনা কেন? 

-- বাবা ছেলেটা ভালো না। আমাকে বাজে কথা বলছে। 

নীলিমা বেগম বলল -- কি বাজে কথা বলছে শুনি! তুই বল কি বলছে তোকে?  

-- মা আমি তোমাদের কি ভাবে বলব? এসব কথা আমি মুখেও আনতে পারছিনা। 


আইরিনের কথা শুনে তার সৎ মা রেগে যায় আর আইরিনের চুলের মুঠি টেনে ধরে। 


-- তোকে বলতে বলছি, না বলে এতো নাটক কেন করিস? 

-- আহহ মা লাগছে ছেড়ে দাও প্লিজ। আমি বলছি। 

-- বল তাড়াতাড়ি। 


এবার আইরিন মাথা নিচু করে সব বলে দিল। মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে রহিম সাহেব বলল -- ছেলেটার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে আমি দেবোনা। কিছুতেই না। 


রহিম সাহেবের কথা শুনে তার স্ত্রী রহিম সাহেবকে একটা ধমক দিয়ে বলল -- তোমার মেয়ে যদি এতোটা ধোয়া তুলসীপাতা হয় তাহলে ওর সাথে রাত কাটালে সমস্যা কিসের? ঐ ছেলের সাথে তো তার বিয়ে হবেই। 


আইরিন নিজের চোখের পানি মুছে বলল -- ছিহ মা, তোমাকে আমার কিছু বলার নেই। আজ আমার যায়গায় যদি তোমার নিজের মেয়ে থাকতো তাহলে তুমি এই কথা বলতে পারতে? পারতেনা। আজ আমি তোমার নিজের মেয়ে না বলে এই ভাবে বলতে পারছো। আমি তো তোমাকে নিজের মায়ের মতোই দেখি। আমার ভাবতেও খারাপ লাগছে। 


এই কথা বলে আইরিন চলে গেলো নিজের রুমে। আর সে রুমে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এই দিকে নীলিমা বেগম রেগে যায়। 

-- দেখেছ? তোমার মেয়ে আমাকে কি বলে চলে গেলো? 

-- আমি আর কি বলব? এই পরিবারে আমার কোনো কথার কি মূল্য আছে? এটা তোমাদের ব্যাপার তোমরা বুঝবে। আমার কী মনে হয় জানো? তুমি বাড়াবাড়িটা একটু বেশিই করছ। 

-- এখন তুমিও শুরু করলে? তোমার জন্যই এই মেয়ে আমার মুখের উপরে এতো বড় কথা বলার সাহস পেয়েছে। 

-- নিজের দোষেই শুনেছ কথা। 


এই কথা বলে রহিম সাহেব ও চলে গেলো। নীলিমা বেগম রেগে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে। আর মনে মনে বলতে থাকে এদের কিছু একটা করতে হবে। দুজনেই খুব বেড়ে গেছে। এসব ভাবতে ভাবতে নীলিমা বেগমের ফোন বেজে ওঠে। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে নিরবের নাম্বার। নীলিমা বেগম তাড়াতাড়ি করে ফোন রিসিভ করে। 


-- কেমন আছো তুমি বাবা? 

-- আমার কথা বাদ দেন। আপনি জানেন আপনার মেয়ে আমার সাথে কি করছে? আমাকে যা-তা বলে অপমান করছে। 

-- বাবা ওর হয়ে আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। ছোট মানুষ ও,কিছুই বুঝে-না। 

-- যে ভাবেই হোক আইরিনকে বিয়ের জন্য রাজি করিয়ে নিন। আগামী শুক্রবার আমি আইরিনকে বিয়ে করতে চাই।

পর্ব১

Comments

Popular posts from this blog

জীবনের আশা

নাইম ফোন হাতে রেখেই চুপ করে বসে পরলো। বসে নিজের কাছে নিজের কথা বলতে থাকলো। এই কি সেই ঝুমুর!! যার জন্য নাইম এতকিছু করলো। আর সেই ঝুমুর আজ এমন হয়ে গেল? তিন বছরের বেশি সময় ঝুমুরের সাথে নাইমের প্রেমের সম্পর্ক। প্রথমদিকে ভাল গেলেও আজ নাই নাই অবস্থায় পরে রয়েছে। আজ সেই প্রথম দিনগুলোর কথা মনে পরে যাচ্ছে। তিন বছর আগে, নাইম কোচিং সেন্টারে এসে বসে আছে। আজ মনেহয় আগেই চলে এসেছে। তাই, নিজে নিজে অসস্তিতে ভুগছে। তাই বসে থাকতে ভাল লাগছে না। নাইম বাইরে এসে অনেককেই আসতে যেতে দেখছে। কাউকে চেনা আবার কাউকে অচেনা। হঠাৎ নাইম একটা মেয়েকে তার দিকেই আসতে দেখলো। মেয়েটি কাছাকাছি আসতে মনেহল সে কোচিং সেন্টারেই ঢুকছে। তাই নাইম দাঁড়িয়ে না থেকে নিজেও কোচিং সেন্টারে ঢুকে গেল। আর মেয়েটিকে লক্ষ করতে থাকলো। নাইম দেখলো মেয়েটি তাদের ক্লাসে এসেই বসলো। তাই নাইম বাইরে না দাঁড়িয়ে রুমে এসে বসে থাকলো। আর মাঝেমাঝে মেয়েটিকে দেখতে থাকলো। কিছুক্ষণ পরে ক্লাস শুরু হয়ে গেল। নাইম ক্লাসে মন দিল। মাঝেমাঝে মেয়েটির দিকে তাকাতেই দেখতে পায় মেয়েটি মুচকি মুচকি হাসছে। আর হাসিটাও প্রানবন্ত হাসি। সেদিনের মত এভাবেই ক্লাস শেষ হয়ে গেল। কোচিং শে...

গল্প: ফিরে আসা, লিখা-আয়েশা

আমার বরকে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে।আমাকে দেখেই মোবাইল টা ঘুরিয়ে রাখল।আমি কিছু বুঝতে দিলাম না।রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল পানি খাবো দেখলাম রায়হান সেই ভিডিও কল নিয়ে ব্যস্ত।আমি পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমন্ত ছোট্ট সোনামণি নওমির দিকে চোখ পড়ল।কি মায়া আমার সন্তানের মুখটি।ওর জন্য আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারি।আমি রায়হান আর আমার দেড় বছরের মেয়ে নওমি আমরা একটা ভাড়া বাসায় থাকি।লাভ মেরিজ করে বিয়ে করেছি।প্রথমে মেনে না নিলেও এখন মেনে নিয়েছে দুই পরিবার। প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করি আমরা।রায়হান আমাকে খুব ভালোবাসতো।আর বলতো তুমি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী।তখন মোহের কারনে বিশ্বাস করতাম আর অনেক খুশি হতাম  বিয়ের পরেও অনেক ভালোবাসা ছিল।কিন্তু নওমি পেটে আসার পর থেকে ও কেমন যেন হয়ে গেছে।এখন আর আমার দিকে তাকানোর ও সময় পায় না।ভালো করে কথাও বলে না।খুব ব্যস্ততা দেখায়।আগে আমাকে ছাড়া ভাত খেতে পারত না আর এখন বলেও না তুমি খেয়েছো কিনা। একদিন রাত বারোটার দিকে ঘুম ভেঙেছে, দেখলাম রায়হান পাশে নেই।পরে দেখলাম সোফায় শুয়ে শুয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছে কানে হেডফোন লাগিয়ে।আমি আর সহ্যকরতে পারলাম না টান দিয়ে ফোনট...

নিঃশব্দ ভালবাসা -- শেখ শরিফ জয়

--- আমাকে একটু ভালবাসবি? --- কেন? --- মানুষ ভালবাসে কেন জানিস না? --- না। তুই বল! --- সাদা কালো জীবনটা রঙিন করার জন্য ভালবাসে। --- তাহলে থাক। আমার জীবন এমনিতেই রঙিন। --- কিন্তু আমার জীবনতো সাদা কালো রং চটা। --- তাতে আমি কি করবো? --- সেই জন্যইতো আমার একটু ভালবাসার রং দরকার। যে রং দিয়ে আমার জীবনটা রঙিন করতে পারি। --- না ,আমি পারবো না। --- আমি জানি তুই পারবি। প্লীজ একটু চেষ্টা করে দেখ। --- আচ্ছা তাহলে দেখি। .. কিছু সময় পর ,,, .. --- কিছু চেষ্টা করে দেখলি? --- দেখছি তবে হয় না রে। --- কি বলিস! হবেনা কেন! হবে। চোখ দুটো বন্ধ করে দেখ পারবি। --- কেনো! চোখ বন্ধ করে কি মানুষকে ভালবাসতে হয়? --- হুম চোখ বন্ধ করে ভালবাসতে হয়। --- তাহলে থাক। আমি অন্ধের মত ভালবাসতে পারবো না। --- তুই যেভাবে ভালোবাসতে চাস সেই ভাবেই ভালবাসিস। তবুও ভালবাস। --- আচ্ছা তোকে ভালবাসলে আমাকে কি দিবি? --- তোর জন্য এনে দেব একশত একটা লাল পদ্ম। মধ্য কপালে ঠাঁই পাবে নীল টিপ। নরম কোমল হাতে পরিয়ে দেব কাঁচের এত্ত গুলা চুড়ি। কালো ক্যাশে গুজে দেব রজনীগন্ধা। --- না থাক। --- কেন ! আবার কি হল? --- তোর এ...